মোঃমিজানুর রহমান (বিশেষ প্রতিনিধি) :-
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে নিরীহ পরিবারের জমি দখল ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে কুলাউড়া পৌর শহরের এক রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলেন হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে রাশেদ খান।
অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম বিধান দত্ত। তিনি হাজিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে নিরীহ ভুক্তভোগী রাশেদ খান অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমাদের চকরনচাপ গ্রামের এক পাশে একটি বটগাছ রয়েছে। যেখানে হিন্দু ধর্মের লোকেরা মাঝে মাঝে পূজা করেন। ওই স্থানে যাতায়াতের জন্য অতীতে কোনো সময় কোনো রাস্তা ছিল না। স্থানীয় লোকজন ক্ষেতের জমি ব্যবহার করে সেখানে যেতেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান দত্ত ওই পূজার স্থানে যাতায়াতের জন্য আমার পরিবারের জায়গার ওপর দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং আমার মৌরসী সম্পত্তি থেকে দুই হাত জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিনিময়ে তিনি অন্যস্থান থেকে দুই শতক জমি দলিল করে দিবেন বলে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেন। তবে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বলেন। এমনকি বিষয়টি যদি জানাজানি হয় তাহলে অন্য জায়গার মালিককেও দুই শতক করে জমি দেওয়া লাগবে বলে তিনি জানান। তাই বিষয়টি আমরা গোপন রেখে ছিলাম। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করে সরল বিশ্বাসে আমাদের জমি থেকে দুই হাত জমি রাস্তার জন্য নেওয়া হয়। বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে ইউপি সদস্য বিধান দত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই দুই শতক জমি বুঝিয়ে দেননি। বরং নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একাধিকবার তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সমাধান না করায় সম্প্রতি আমি রাস্তার জন্য দেওয়া নিজস্ব জমির অংশটুকু চাষ করার উপযোগী করি। এছাড়া উক্ত রাস্তার পাশে ৫৬ এসএ রেকর্ডীয় জমি খাল খননের ন্যায় একটি পতিত জমি রয়েছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই জমিতে রাস্তা করার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহন করেননি। রাস্তার বিষয় নিয়ে বিধান দত্ত তার নিজস্ব লোক দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। যার কারণে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় গত ১৬ জুন নিরাপত্তা চেয়ে ইউপি সদস্য বিধান দত্তসহ তার সহযোগী ১০ জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাশেদের ফুফা আব্দুল বশির, সৈয়দ মঈন উদ্দিন, ফুফাতো ভাই আব্দুল্লাহ মাছুম প্রমুখ।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য বিধান দত্ত বলেন, আমার এই এলাকায় কালাচাঁদ নামে প্রাচীনতম একটি দেবালয় রয়েছে। রাশেদ খানের পিতার সম্মতিতে সনাতন ধর্মের লোকদের দেবালয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তাটি তৈরি করে দিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন চক রনচাপ এলাকায় সার্বজনিন কালাচাঁদের (দেবালয়) তলি যাওয়ার রাস্তা রাশেদ খান কর্তৃক কাটার প্রতিবাদে স্থানীয় সনাতন ধর্মের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, রাশেদ খানের অভিযোগটি পেয়েছি। পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।