বিশেষ প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর:
সরকারি নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১১ নম্বর চররমণী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চ ও ফেরিঘাটে অবাধে চলছে অবৈধ স্পিডবোট ও ট্রলার। প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে ছোটখাটো নৌযান ও স্পিডবোট চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট। আইনের লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা তাঁদের যোগসাজশে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের ভয়াল থাবাও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘাটে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করে ৬২টি স্পিডবোট পরিচালনা করা হচ্ছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে মজুচৌধুরীর হাট ঘাটে সভাপতি হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে এই চক্র পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ ইউসুফ এবং স্থানীয়দের ভাষ্য মতে ‘দানু’ নামে আরেক ব্যক্তি। অন্যদিকে, মজুচৌধুরীর হাট থেকে ভোলা রুটের ভোলা প্রান্তে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ফারুক। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই প্রতিদিন ক্রমানুসারে (সিরিয়াল অনুযায়ী) চালানো হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এসব নৌযান।
বিআইডব্লিউটিএ-এর দায়িত্বরত ট্রাফিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঘাটে তাঁর দেখা মেলেনি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, “ঘাট থেকে কোনো স্পিডবোট বা ট্রলার ছাড়ে না, এগুলো চর থেকে যায়।” তবে বোট মালিক সমিতি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম নিজেই ঘাটে বসে এই ৬২টি স্পিডবোটের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করেন। আইনশৃঙ্খলা ও নৌ-নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এমন ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে—‘রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’
সারাদেশে প্রায়শই নৌ-দুর্ঘটনা ও সাগরে ছোট নৌযান উল্টে প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হলেও কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নৌপথের এই অনিয়মের সুযোগে মজুচৌধুরীর হাট-ভোলা রুটে মাদকের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যানের মতে, এই ঘাট দিয়ে মাদকের ভয়াবহ চালান আদান-প্রদান হচ্ছে। সম্প্রতি র্যাব ফেরিঘাট এলাকা থেকে ৫৬ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঘাটের সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দূরপাল্লার এই স্পিডবোট ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ বাহন হিসেবে ব্যবহার করেই মাদক কারবারিরা অনায়াসে পারাপার হচ্ছে।
নৌপথকে মাদকমুক্ত করা এবং বড় ধরনের কোনো নৌ-দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। চালক, মালিক ও তাঁদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।