শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
রাজৈরে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজৈরে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ১ ঘন্টা কলম বিরতীর আহ্বান। ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য নারায়নগঞ্জের মদনপুর কেওডালা ভূমি অফিস, তহসিলদার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান অবৈধভাবে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিআইডব্লিউটিএর নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম কর্মসংস্থান ব্যাংক পেল ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন রাজৈরে কোরবানীর পশুর চামড়ার বর্জ্য ফেলার কারণে মারা গেল ১০ লাখ টাকার মাছ চর কাদিরা ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সোলাইমানের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা

মোবাইল কোর্ট, জরিমানা, জব্দ—তবুও চৌদ্দগ্রামে অবৈধ মাটি কাটা চলছে

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় প্রশাসনের অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা কার্যক্রমের পরও অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। বরং অভিযানের পরপরই নতুন করে শুরু হচ্ছে মাটি কাটার কার্যক্রম, যা স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ জরিমানা আদায় এবং মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু ও ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে, অভিযানের বাইরে এলাকায় আবারও অবৈধ মাটি উত্তোলন শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন, জরিমানা দেওয়ার পরও লোভী চক্র আবারও মাটি কেটে যাচ্ছে। কয়েক হাজার টাকার জরিমানা তাদের কাছে ব্যবসার খরচ মাত্র।

ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি উঠে গেলে সেই জমি বহু বছর ফসল উৎপাদনের অযোগ্য হয়ে যায়। এতে শুধু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং পুরো এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি জমির মাটি কাটা আইন লঙ্ঘন ছাড়াও পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কার্যকর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতেই থাকবে।

প্রশাসনের করণীয়
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, মাটি কাটার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রশাসনকে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে
নিয়মিত ও আকস্মিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: দিনে এবং রাতে একাধিক অভিযান।

দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা আরোপ: পুনরাবৃত্ত অপরাধে সর্বোচ্চ জরিমানা নিশ্চিত।
ভেকু ও ডাম্প ট্রাক স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত: আদালতের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত ও নিলাম।

মূল হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা: শ্রমিক বা চালকের বাইরে মাটি ব্যবসার মূল বিনিয়োগকারী ও গডফাদারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা।

প্রথমবার অপরাধে ২–১০ লক্ষ টাকা জরিমানা
পুনরাবৃত্তি হলে ১০–২০ লক্ষ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ড।

কৃষি জমি পুনরুদ্ধার: যেখান থেকে মাটি কাটা হয়েছে, সেখানে অপরাধীর খরচে পুনরায় মাটি ভরাট নিশ্চিত।

কৃষি জমি রক্ষা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসন স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে চৌদ্দগ্রামে অবৈধ মাটি কাটার প্রবণতা বন্ধ হয়।

শেষ কথা: মাটি শুধু মাটি নয়—এটাই কৃষকের জীবন, দেশের শ্বাস-প্রশ্বাস।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর