নিজস্ব প্রতিবেদক : জাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও বিধি বহির্ভূতভাবে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধক (নিকাহ রেজিস্ট্রার) নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে ফেঁসে যাচ্ছেন শেরপুরের সাবেক ও ভোলার বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার মো. নূর নেওয়াজ। তাঁর এই জাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও বিধি বহির্ভূতভাবে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক (নিকাহ রেজিস্ট্রার) নিয়োগ দেওয়ার বিষয় টি নজরে আসায় গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি কঠোর অফিস আদেশ জারি করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ থেকে ২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে ১০.০০.০০০০.১৩১.১১.০১০.৯৯-১৪১ নং স্মারকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, নূর নেওয়াজ শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূতভাবে এবং কোনো প্রকার আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই ঝিনাইগাতী উপজেলার ৪ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নে মো. আতিকুর রহমানকে অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। আইন মন্ত্রণালয় নূর নেওয়াজের দেওয়া সেই নিয়োগপত্রটিকে “আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন (non est)” এবং “অকার্যকর (still-born)” বলে ঘোষণা করে তা বাতিল করেছে। একই সাথে ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরাধে নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের উইং শাখা-৬ কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আদেশের ফলে নূর নেওয়াজের সরকারি চাকরি এখন চরম ঝুঁকিতে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর এই অপরাধকে ‘গুরুতর অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (Dismissal) বা পদাবনতি দেওয়া হতে পারে।
জানা যায় নুর নেওয়াজ শেরপুর এ জেলা রেজিস্ট্রার থাকা অবস্থায় জাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও বিধি বহির্ভূতভাবে একাধিক বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক (নিকাহ রেজিস্ট্রার) নিয়োগ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক (নিকাহ রেজিস্ট্রার) কাজি নিয়োগ দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে শেরপুর সহকারী জজ আদালতে ২০২৪ সালে ৯৫৮/২৪ নং মামলা হয়। আদালত মামলাটি সিআইডি শেরপুর কে তদন্তের নির্দেশ দেন। উক্ত ফৌজদারি মামলায় ইতিমধ্যেই নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলাটি বর্তমানে শেরপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। উক্ত মামলার বাদী কাজি মোহাম্মদ আবু সাইদ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে নূর নেওয়াজ অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের ফাইল আটকে রাখলেও আইন মন্ত্রণালয়ের এই নতুন আদেশ এবং সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট আসামির সাজা নিশ্চিত করতে আদালতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।