শেখ সাজেদুল হক (বোরাক)
স্টাফ রিপোর্টার, .
গত ১৯/০৮/২০২৬খ্রিঃ তারিখ অনুমান সকাল ১১:৩০ ঘটিকার দিকে শিবচর থানাধীন মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি সাকিনস্থ খান বাড়ীর দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার অপর পাশে জনৈক বিল্লাল শিকদারগং এর মালিকানাধীন ভূমিতে ঝোপের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর মৃত দেহ পড়ে থাকার সংবাদ শিবচর থানায় আসে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং অজ্ঞাত নারীর নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। ডিসিস্ট এর নাম-ঠিকানা শনাক্তপূর্বক তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিসিস্ট শাম্পা খাতুন এর বাবা ছামরুল ইসলাম, গ্রাম-আট্রিকা, পোস্ট-বেরিলাবাড়ি, থানা-লালপুর, জেলা-নাটোর শিবচর থানায় উপস্থিত হন। ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে জানান যে, ডিসিস্ট শাম্পা খাতুন তার বড় মেয়ে। গত ০৩ বছর পূর্বে জনৈক মোঃ শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, পিতা-ছিদ্দিক হাওলাদার, সাং-বড় মেহের, থানা ও জেলা-মাদারীপুর এর সহিত তার মেয়ে শাম্পা খাতুন (২৮) এর সহিত ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর স্বামীর সহিত ঘর সংসার করাকালিন আমার মেয়ের একটি পুত্র সন্তান হয়। যার নাম আবির (১)। গত ইং-১৯/০৮/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪:৩০ ঘটিকার সময় তাদের এলাকার গ্রাম পুলিশ এর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ইং-১৯/০৮/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১১:৩০ ঘটিকার সময় আমার মেয়ে শাম্পা খাতুন এর লাশ শিবচর থানায় পাওয়া গিয়াছে। তার নাতনি আবিরকে (১) খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে গত ২০/০৮/২০২৬খ্রিঃ তারিখ ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় এজাহার দায়ের করলে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
মাদারীপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশনায় জনাব মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদের, সহকারী পুলিশ সুপার, শিবচর সার্কেলের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ মাদারীপুর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যাকারীকে শনাক্ত ও অবস্থান নির্নয় করার জন্য শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনায় সন্দেহভাজন ফারুক, পিতা-রতন মোল্লা, স্থায়ী সাং-জয়সোমা, পোস্ট-তেরখাদা, থানা-তেরখাদা, জেলা-খুলনার, এ/পি সাং-বাখরের কান্দি, ইউপি-মাদবরচর, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর এর বাসা তল্লাশী করা হয়। তল্লাশীতে আসামী ফারুক এর নিকট হতে ভিকটিম শাম্পার ব্যবহৃত স্বর্ণের নাক পিন ও রোপার গলার চেন, বাসার চুলা হতে ডিসিস্ট শাম্পা খাতুন এর ওড়না পোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় ও ডিসিস্ট এর এক জোড়া জোতা উদ্ধার করা হয়। আসামী ফারুক ডিসিস্ট শাম্পা খাতুন এর ছেলে আবির (১) কে আড়িয়াল খা ব্রীজ হতে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে মর্মে প্রাথমিক স্বীকার করে। বাচ্চার লাশ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ হত্যা, ডাকাতি এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং সামনে আরো এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।