মো: লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্):
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পন্ডহয়ে গেছে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও পাল্টা হামলায় মাদরাসার শিক্ষার্থী-পুলিশসহ ৩১জন আহত হয়েছে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতাল, ঘাটুরার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলার বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামীয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর স্ত্রী পুনাক উপদেষ্টা সিদারাতুল মুনতাহার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরে তার স্ত্রীও সঙ্গে আসেন।
জাসাসের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি হচ্ছিলো। এতে উচ্চস্বরে গান বাজালে পার্শ্ববর্তী দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে উচ্চস্বর কমাতে বলে। এনিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভিতরে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে। সেসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে লাঠিচার্জ করে। ছাত্ররাও পাল্টা ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এ ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষার্থী পুলিশসহ ৩১ জন আহত হয়।
আহতরা হলো- শেখ সানি (১১), সাখাওয়াত (২০), বিন ইয়ামিন (২০), আব্বাস (১৭), জাকারিয়া (২১), মেরাজ (১৮), আশরাফ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), সিয়াম (১৭), ফাইজুর রহমান (২১), আরাফাত (১৮), বাশার (১৯), মাহাদী (২০), তাওহীদ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), বাইজিদ (১৭), শেখ সাদী (১৬), ফাহিম (২০), আব্দুর রহিম (২০), মিরাজ (২৭), আশরাফ (১৭), সাদেক (১৯), মনি (২৭), রাফি (১৮), শামিম (১৭), তালহা (১৮), আতাউল্লাহ (১৯), নিয়ামত উল্লাহ (২২), ইমতিয়াজ (১৭), আশরাফ (১৭), তানভির (১৭)। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দারুল আরকাম মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, মাদরাসায় তাদের পরীক্ষা রয়েছে। গান বাজনার উচ্চস্বরে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তারা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গিয়ে উচ্চস্বর কমানোর জন্য বলেন। প্রথমে কমালেও পরে তারা আবারো উচ্চস্বরে গান বাড়িয়ে দেয়। এনিয়ে পুলিশের সাথে ছাত্রদের বাদানুবাদ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছাত্রদের আহত করে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঐরাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় মাদরাসা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ায় দু’পক্ষের বৈঠকে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ভুল বুঝাবুঝির কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানান এক বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ
জেলা পরিষদের প্রশাসক পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, পুলিশ লাইন্সের মেইন গেইটে দায়িত্বপালনকারী ৩ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানাযায়।