মিজানুর রহমান সোহেল বাংগালী :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।গত ৩ এপ্রিল উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত নবগঠিত কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে সোসাল মিডিয়ায় চলছে পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়,চাকুরীজিবী,অছাত্র,রাজনৈতিক অস্তিত্বহীন ও বিবাহিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করায় এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগ করেন নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মোঃ হাসান মাহমুদ।
গত ৫ এপ্রিল কমলনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর অভিযোগ ও পদত্যাগ পত্র দাখিল করেন হাসান মাহমুদ।
এতে তিনি উল্লেখ করেন,২০০৮ সাল থেকে চরকাদিরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি শ্রমঘাম ও অর্থ ব্যয় করেন।এবং নানা হামলা মামলায় কারাবরণ ভোগ করে দলের জন্য জীবনবাজী রেখে কাজ করে আসলেও উপজেলা ছাত্রদল তাকে সে ভাবে মূল্যায়ন করেননি।
কিন্তু গত ৩ এপ্রিল উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সাজু ও সদস্য সচিব জাফর আহমেদ ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে নাসির মাহমুদ কে সভাপতি ও মোঃ ইউছুফকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ইউনিয়ন অনুমোদন দেন।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি নাসির মাহমুদ একজন চাকুরীজীবি।তিনি এলাকায় থাকেননা,
চট্টগ্রামে চাকুরী করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ কমিটির অন্য সদস্যদের অধিকাংশ সদস্য বিবাহিত,অছাত্র,রাজপথ বিমুখ,অস্তিত্বহীন বলে আখ্যা দিয়ে এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন আরো কতিপয় কমিটিতে থাকা নেতা।এই কমিটি সম্পূর্ন টাকার বিনিময়ে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন হাসান মাহমুদ।
উপজেলা আহবায়ক কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যোগ্যদের অবমুল্যায়ন করে অযোগ্য ও অদক্ষ লোক দিয়ে কমিটি অনুমোদন দেন। কমিটির তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক ত্যাগী নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে একজন চাকুজীবি ও বিবাহিতদের দিয়ে কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় দলের অভ্যন্তরে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। বিএনপির দলীয় একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ চরকাদিরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে চলছিল ত্যাগী নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ। তারা দলের কমিটিতে স্থান পেতে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একজন চট্টগ্রামে প্রবাসী, চাকরিজীবীসহ অছাত্রদের দিয়ে ৩১ সদস্য চরকাদিরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় চলছে তৃণমূলে চরম ক্ষোভ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা বলেন, অযোগ্য, অছাত্র এবং বিতর্কিতদের দিয়ে একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে, আমরা মনে করি এটা দলের অভ্যন্তরে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। ত্যাগীদের অবমুল্যায়ন করা হয়েছে। টাকার কাছে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক বিক্রি হয়ে এই বিতর্কিত কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি নাসির মাহমুদের দাবী,তিনি একজন ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে থেকে শুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা ছাত্রদল তাকে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি পদে মুল্যায়ন করেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাফর আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, ছাত্রদল দেশের বৃহত্তম সংগঠন। এখানে মান অভিমান থাকবেই।সবাইকে তো আর পদ দেওয়া যাবেনা।যাচাই বাচাই করে যোগ্যদের মুল্যায়ন করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে অন্য কেউ বিবাহিত-অছাত্র আছে কিনা আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। পদবঞ্চিত একটি গ্রুপ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমরা আগামী দিনগুলোতে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে থাকবো।
উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন সাজু অভিযোগ সম্পর্কে বলেন,এইটা ঠিক যে,হাসান ছাত্রদলের একজন ত্যাগী নেতা।তবে সবাইকে তো আমরা পদ দিতে পারবোনা।তার ভবিষ্যত আছে। আমরা তাকে অবশ্যই মুল্যায়ন করবো।