শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
মজুচৌধুরীহাটে কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের নাকের ডগায় কোটি টাকার অবৈধ তেল চোরাচালান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০; গ্রেপ্তার ৫ বিজিবি’র সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলি;পিস্তল-গুলি-ইয়াবাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক জেলা রেজিস্ট্রার নূর নেওয়াজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে খামখেয়ালী ভাবে কাজী নিয়োগ, ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ কাজী খোরশেদ আলম সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে বিভিন্ন অপরাধে ৭৪ গ্রেফতার চকবাজারে ২০ ইয়াবা সহ ২জন গ্রেফতার মো: মনির হোসেনকে ডা. আনোয়ারুল আজীম ও মাহমুদুর রহমান মুরাদের শুভেচ্ছা মাদারীপুর শিবচর থানাধীন মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি হইতে এক যুবতি নারীর মৃতদেহ উদ্ধার কমলনগরে ইজারা নিয়েও আতঙ্কে ব্যবসায়ী: সাবেক টোল আদায়কারী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য নারায়নগঞ্জের মদনপুর কেওডালা ভূমি অফিস, তহসিলদার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান অবৈধভাবে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মিজানুর রহমান ঃ
নারায়ণগঞ্জের মদনপুর কেওডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোঃ হাবিবুর রহমান আপন টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। করেছেন নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লী এলাকায় ৩ নং রোডে ১৩ নাম্বার বাড়িতে ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের তিনটি বিলাস বহুল ফ্লাট রয়েছে। যার বাজার মূল্য তিন থেকে চার কোটি টাকা। সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকা সম্পদ।
ভূমি সংক্রান্ত যে কোন সেবার বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এই অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লী এলাকায় ৩ নাম্বার রোডের ১৩ নাম্বার ভবনে ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের তিনটি ফ্লাট রয়েছে এমন সত্যতা পাওয়া যায়। ভবনের সিকিউরিটি বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ভূমিপল্লীতে বেনামে রয়েছে তার আরো সম্পদ। শুধু তাই নয় তার দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মদনপুর বাসি।
মদনপুর ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তোলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে। নামজারি করাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।   
চুক্তির টাকা ছাড়া কোন ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোন কাজ আদায় করা যায় না।
এই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান আপন গ্রাহক থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে মাঠ পর্যায়ের মদনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এ গুণধর কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জমির কাজে আসা ভূক্তভোগীরা বলছেন। ভূমি অফিসে আসা এক গ্রাহক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, এই অফিসের কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন।সেবা প্রাপ্তির ৮০ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হতে হয় আজ না-কাল সময়ক্ষেপন করে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা। ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংক টাকা আদায় করে এই অফিসের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদকের সু-হস্তক্ষেপ জরুরি। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান যেখানেই তিনি চাকুরি করেছেন সেখানেই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়েছেন এমন অনেক প্রমাণ আছে তার সকল কর্মস্থলে গিয়ে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া তিনি যেখানে চাকুরি করেন সেখানেই তিনি একটি শক্তিশালী দালাল চক্র তৈরি করে রাখেন যাদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা পয়সা লেনদেন করেন। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হাবিবের ঘুষ লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং তাদেরকে নিজে মারধর করেন এবং আটকিয়ে তার দালাল চক্র দিয়েও মারধর করান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমি সাংবাদিকদের সাথে কিছুই করিনি এবং তার সম্পদের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন
আমার বাবা একজন ব্যাংকার ছিলেন,ওই সময় আমরা অনেক টাকা পয়সার মালিক ছিলাম, আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিল্পপতি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সম্পদের ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করা আছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লীতে প্রায় তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট এর মালিক কিভাবে হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর