বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
মজুচৌধুরীহাটে কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের নাকের ডগায় কোটি টাকার অবৈধ তেল চোরাচালান: নেপথ্যে রনি ও সবুজ সিন্ডিকেট মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০; গ্রেপ্তার ৫ বিজিবি’র সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলি;পিস্তল-গুলি-ইয়াবাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক জেলা রেজিস্ট্রার নূর নেওয়াজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে খামখেয়ালী ভাবে কাজী নিয়োগ, ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ কাজী খোরশেদ আলম সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে বিভিন্ন অপরাধে ৭৪ গ্রেফতার চকবাজারে ২০ ইয়াবা সহ ২জন গ্রেফতার মো: মনির হোসেনকে ডা. আনোয়ারুল আজীম ও মাহমুদুর রহমান মুরাদের শুভেচ্ছা মাদারীপুর শিবচর থানাধীন মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি হইতে এক যুবতি নারীর মৃতদেহ উদ্ধার কমলনগরে ইজারা নিয়েও আতঙ্কে ব্যবসায়ী: সাবেক টোল আদায়কারী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

মজুচৌধুরীহাটে কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের নাকের ডগায় কোটি টাকার অবৈধ তেল চোরাচালান: নেপথ্যে রনি ও সবুজ সিন্ডিকেট

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি, : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১১ নম্বর চর রমণী মোহন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মজুচৌধুরীহাট ফেরিঘাটের পশ্চিম পাশে ক্যাম্পের খালের মাথায় অবাধে চলছে অবৈধ জ্বালানি তেলের চোরাচালান। কোস্টগার্ড ক্যাম্পের একদম কাছেই দিনের পর দিন,

মাসের পর মাস ধরে প্রকাশ্যে এ অবৈধ কারবার চললেও দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই তেল চোরাচালানের মাধ্যমে অল্প দিনেই কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন স্থানীয় চিহ্নিত কারবারি রনি।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থেকে মদদ দিচ্ছেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির ছেলে সবুজ। তিনি আড়ালে থেকে প্রভাব খাটিয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ তেল বাণিজ্যের একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
​যেভাবে চলে তেলের চোরাচালান:
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) এক শ্রেণির অসাধু ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মচারীদের যোগসাজশে সরকারি ড্রেজার থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল চুরি করে রনি ও তার গ্যাং। এছাড়া নদীতে থাকা বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির ড্রেজার এবং বালু বহনকারী বলগেটের সুকানিদের (চালক) সাথে আঁতাত করে রাতের অন্ধকারে তেল সংগ্রহ করা হয়।
​প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় তেলের এই অবৈধ খেলা, যা চলে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত। নদীপথের ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করে জাহাজ থেকে তেল নামিয়ে রনির নিজস্ব বসতঘরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গোপন আস্তানায় মজুদ করা হয়। পরবর্তীতে এই চোরাই তেল সুবিধাজনক সময়ে বিভিন্ন ফিশিং ট্রলার ও স্থানীয় বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।

চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান সাধারণ মানুষ। এমনকি তেলের ব্যবসায় সাড়া না দিলে জোড় জবরদস্তির শিকার হতে হয় অনেককে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর একটি বালুর বলগেটের সুকানি কালা মিঞা তাদের কাছে চোরাই তেল বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে, তার ওপর রনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে জোড়পূর্বক একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও টিপসই আদায় করে নেন।
​কোস্টগার্ড ক্যাম্প ও স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে (কিংবা ম্যানেজ করে) বছরের পর বছর কীভাবে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অতি দ্রুত এই অবৈধ তেল চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতা রনি ও তার পেছনে থাকা প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
​(চলবে… পর্ব-২)

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর