শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
রাজৈরে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজৈরে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ১ ঘন্টা কলম বিরতীর আহ্বান। ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য নারায়নগঞ্জের মদনপুর কেওডালা ভূমি অফিস, তহসিলদার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান অবৈধভাবে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিআইডব্লিউটিএর নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম কর্মসংস্থান ব্যাংক পেল ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন রাজৈরে কোরবানীর পশুর চামড়ার বর্জ্য ফেলার কারণে মারা গেল ১০ লাখ টাকার মাছ চর কাদিরা ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সোলাইমানের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা * স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

মো: লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্): রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সের ৬ নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৭ মে এ ঘটনা ঘটে। কী কারণে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নবজাতকদের স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে অব্যবস্থাপনা ও এসি বন্ধ থাকাই নবজাতকদের মৃত্যুর কারণ। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান ঘটনার রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা করেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি। আপত্তি না করায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই নবজাতকদের লাশ নিয়ে গেছেন তাদের স্বজনরা।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) জাহিদ রায়হান সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল শনিবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে হাসপাতালটি ৬ শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার পর থেকে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় হাসপাতালের কর্মচারীরা। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়। তাদের হাত থেকে কেড়ে নেয়া হয় ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের পক্ষে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। তিনি বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে কাউকে এখনো আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। নবজাতকদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

অপরদিকে ঘটনার দিন দুপুরের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ওই কক্ষ সিলগালা করে দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করেন তাঁরা।
তারপর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরাও সেখানে আসেন। কক্ষটিতে ক্ষতিকর কোনো গ্যাস আছে কি না, সেটির নমুনা সংগ্রহ করে দলটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিটিটিসির দলের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল বলেন, নমুনায় ক্ষতিকর গ্যাস ছিল কি না, তা পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) জাহিদ রায়হান বলেন, হাসপাতালের ওই কক্ষ ‘সাফোকেটিভ (বদ্ধ)’ ছিল। এটিকে পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হয়নি। এ রকম একটা জায়গাতে ছয়টি মৃত্যু খুব অস্বাভাবিক। এ রকম একটা পোস্ট-অপারেটিভ বছরের পর বছর ধরে চলছে, কোনো দুর্ঘটনা হয়নি। এখন হঠাৎ ছয়টি বাচ্চা কেন মারা গেল? সুতরাং কারণটা খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।

উক্ত ঘটনার পর শনিবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমে হাসপাতালটির পাঁচতলায় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) যান, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কলেজ ভবনের আটতলায় থাকা একটি বেকারি পরিদর্শন করেন। শেষে দ্বিতীয় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে যান। যেখানে ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। ওয়ার্ডটি পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় অবস্থিত বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলেন। ইতিমধ্যে বেকারিটি সিলগালা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটিকে শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও আরো তিন দিন সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ, সেখানে অবস্থানরত সন্তানহারা মায়েদের এখনো বক্তব্য নেয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আগামী ৩ জুন দেয়া হবে প্রতিবেদন। তিনি আরো বলেন, জানা গেছে এসি ২ ঘণ্টা বন্ধ ছিল এবং সেটা রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, এসময় কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিবেদনের আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

গত শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালটিতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। বাগ্বিত-ায় জড়ান তাঁরা। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও স্টাফরা। খবর পেয়ে সেখানে আসেন পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির স্টাফরা। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সরকার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আসা-যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়। এরপরও গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালটির নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। বেকারিতে প্রবেশেরও চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা সেখানে আসেন। একপর্যায়ে তাঁরা ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বের করে দেন। ঘটনাকে অনাকাঙ্খিত দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর