অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অনেক নারী-উদ্যোক্তাগণ লাগেজ এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের মাধ্যমে অনানুষ্ঠিকভাবে প্রচুর পণ্য রপ্তানি করেন। অনেকে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলেও রপ্তানি করে থাকেন। তবে নারী-উদ্যোক্তাদের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নারী-উদ্যোক্তাদের সাথে বিদেশী ক্রেতাদের সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আইটিসি শি-ট্রেডস-এর এই ধরনের উদ্যোগে এসএমই ফাউন্ডেশন সর্বাত্মক সহায়তা করবে।
ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনের উপ-উন্নয়ন পরিচালক মার্টিন ডসন বলেন, বাংলাদেশের নারী-উদ্যোক্তাদের সাথে বৃটিশ ক্রেতাদের সংযুক্ত করার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য দুই দেশের বাণিজ্য অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করছে। আইটিসি’র পলিসি লিড জেম আরবো বলেন, টেকসই সরকারি ক্রয় নীতির সুফল পেতে নারী-উদ্যোক্তাদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারের ই-জিপি সিস্টেমে নারী-উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন আরো বাড়ানো প্রয়োজন। আইটিসি’র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা তানভীর আহমেদ বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী-উদ্যোক্তাদের সাথে বৃটিশ ক্রেতাদের সংযোগ তৈরির দারুণ সুযোগ তৈরি হলো।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০% শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯%-এর বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫% সিএমএসএমই খাতে। এই খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এসএমই নীতিমালা ২০১৯ এবং এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০%-ই নারী-উদ্যোক্তা।