বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
হকার উচ্ছেদে নগরবাসীর স্বস্তি হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসকন আহমে হলেদ আলী মুকিব এক যুগ আগের মামলায় ইনকিলাব সম্পাদকসহ চার সাংবাদিক খালাস বাউবির নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ মুরাদনগরের মেয়ে নবীনগরের স্বামীর বাড়ীতে ঝুলন্ত মরদেহ। বিএনপির নেতার উপর অতর্কিত হামলা ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ২৯ ও ৩০ এপ্রিল উমরাহ ও ভিজিট ফোরামের সভায় যোগ দিতে সৌদি আরব গেলেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব: ধর্মমন্ত্রী

হকার উচ্ছেদে নগরবাসীর স্বস্তি

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি :: রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিস্তান, মিরপুর-বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান ডিএমপির

মোঃ লুৎফর রহমান (খাজা শাহ্) রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম সড়ক, ফুটপাত এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলদারিত্ব নগর জীবনের এক বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি , যানজটের তীব্রতা বৃদ্ধি, জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলে বাধা এবং শহরের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অন্যতম কারণ হিসেবে হকারদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি বহুদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছিলো।

অবশেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উচ্ছেদ অভিযানে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে আশা দেখছে নগরবাসী। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলছেন তারা। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বনানী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে ফুটপাত দখলে রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কয়েকটি হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। বনানী-কাকলী অংশে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। কোথাও খাবারের হোটেলের রান্নার সরঞ্জাম, কোথাও গ্রিল মেশিন, আবার কোথাও আসবাবপত্র ও ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি ফুটপাতজুড়ে রাখা হয়েছে। এসব সরিয়ে দিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মিরপুরের ব্যস্ত এলাকার সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে হকারদের দখল, হাঁকডাক আর তাদের ভিড়ে নিত্যদিনের চলাচল ছিল চরম ভোগান্তির। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ঢাকা মহানগর পুলিশ) অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকায় ফিরে এসেছে স্বস্তি। মিরপুর-১০ চত্বর ও আশপাশের সড়কগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালায় ডিএমপি। এতে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসা হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্ধিত অংশও অপসারণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়কের একাধিক লেন দখল করে বসা দোকানপাট ও ভাসমান ব্যবসা না থাকায় যানবাহনের গতি বেড়েছে, কমেছে যানজটও। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাসমান ওক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

পুলিশ সদস্যরা বলছেন, এই অভিযান কেবল সাময়িক নয় বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য শহরের ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা। অভিযানের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেসব ফুটপাত আগে হাঁটার অযোগ্য হয়ে পড়েছিল, সেখানে এখন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে এবং স্কুল-কলেজ ছুটির সময়, যখন পথচারীদের চাপ বেশি থাকে, তখন এই পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।

অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যানজট নিরসনে এর প্রভাব। ঢাকার যানজট সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক পথচারী বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটে, যা যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। হকার উচ্ছেদের ফলে এই প্রবণতা কমেছে এবং কিছু এলাকায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর আগেও উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিন পরই হকাররা আবার ফিরে আসে এবং আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হকার উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শহরের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদি এটি ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা যায়। তারা আরও বলেন, ফুটপাত মুক্ত থাকলে মানুষ বেশি হাঁটতে উৎসাহিত হবে, যা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। অভিযানের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নাগরিক সচেতনতারও বড় ভূমিকা রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই হকাররা ফুটপাতে বসতে উৎসাহিত হয়। তাই নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট এলাকায় হকার জোন তৈরি করে তাদের নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের করতে।

গুলিস্তান এলাকায় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতিদিন অফিসে যেতে গিয়ে প্রচ- ভোগান্তির শিকার হতে হতো। ফুটপাত দখল করে হকাররা বসে থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটতে হতো যা ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখন অন্তত স্বস্তিতে হাঁটা যাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা কাউকে অযথা হয়রানি করছি না। তবে আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থের বিষয়টি আমাদের দেখতে হয়। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সচেতন করা। ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। দোকানের বাইরের অংশ ব্যবহার করে ফুটপাত দখল করলে মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। গত এক সপ্তাহ ধরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনেকে তা মেনে নিলেও যারা মানেননি, তাদের বিরুদ্ধে এ বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এ দিনের অভিযানে ছয়-সাতটি দোকানকে প্রায় ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান একদিনের নয়, ধারাবাহিকভাবে চলবে। আমরা এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছি। যদি আবার কেউ ফুটপাত দখল করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জেল ও জরিমানার আওতায় আনা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশর (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের বর্ধিতাংশ দ্রুত অপসারণ করতে হবে। অনেক রেস্টুরেন্ট ফুটপাতে রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল ও কাবাব মেশিন বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আবার মোটর ওয়ার্কশপগুলো রাস্তার একাংশ দখল করে গাড়ি মেরামতের কাজ করছে। পোশাক, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন দোকানের পণ্যও ফুটপাতে প্রদর্শনের জন্য রাখা হচ্ছে। এসব কারণে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন। নির্দেশনা অমান্য করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এতে কারাদ-, অর্থদ- এবং মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এ সভা আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর-১০ এলাকার মুকুল ফৌজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে, যাতেক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সড়ক-ফুটপাতও দখলমুক্ত থাকে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর