বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় ভূমি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ সংরক্ষিত আসনে এমপি হচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে জহরত আদিব পল্টনে ১মাসে ১শ৯৪জন গ্রেফতার ২৭ টি মোবাইল উদ্ধার ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত অকটেন ও পেট্রোল সংকটে ধুঁকছে নবীনগর: সক্রিয় অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট; রাতের আঁধারে বাড়তি দামে বিক্রি লক্ষীপুর পৌরসভা ফিরোজ মিয়া তৈলের পাম্পের ম্যানেজার অহিদ/ অধূদের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রাজধানীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ নবীনগর আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের রোগীকে মেরে ফেলার অভিযোগে হাসপাতাল ভাংচুর  চিরসবুজ নায়ক আলমগীরের ৭৬তম জন্মদিন পালিত বাংলাদেশে জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনে আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকের

কলাকোপা মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি বাতিল ও শিক্ষক বহিষ্কারের দাবীতে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন  

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ জুন, ২০২২
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার শতবছরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে এই কমিটি সম্পুর্ন বাতিল করণ ও মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আকতার হোসেনকে বহিষ্কারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে রামগতি উপজেলা সাংবাদিক ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য শিক্ষার্থীরা বলেন,
বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের শতবছরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদরাসা। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব মৌলভী মোখলেছুর রহমান এটি প্রথমে মকতব আকারে প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তীতে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিখ্যাত বুজুর্গ আলেম মরহুম মাওলানা সাইদুলহক (রহঃ) বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসার কারিকুলামে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন। তখন এটির নাম করণ করা হয় জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদরাসা।
শিশু শ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদীশ টাইটেল (মাস্টার্স) পর্যন্ত পাঠদান দেওয়া হয় এখানে। পাশাপাশি হেফজ বিভাগ ও বিশাল একটি এতিমখানা রয়েছে এই জামিয়ায়। সুপরিসর আবাসিক ছাত্রাবাসে গরীব অসহায় ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য রয়েছে সম্পুর্ন আবাসিক থাকা-খাওয়ার সু ব্যবস্থা। বর্তমানে ৩৪ জন শিক্ষক ৭ জন কর্মচারীর তত্বাবধানে প্রায় ৯ শতাধিক ছাত্র এখানে অধ্যায়ন করছেন। আবাসিকে ৫ শতাধিক ছাত্র নিয়মিত থেকে খেয়ে এলমে দ্বীনের অনুশীলন করছেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২২ জন দাওরায়ে হাদীশ (মাস্টার্স) বিভাগ থেকে খতমে বোখারী সম্পন্ন করেন। স্থানীয় চরবাদাম ইউনিয়নের চরকলাকোপা গ্রামে ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদরাসাটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্বীনি এলেম বিতরণ করে হাজার হাজার যুগশ্রেষ্ট আলেম,মুফতী-মুহাদ্দিস তৈরীর মধ্যদিয়ে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন প্রতিষ্ঠানটি। ইলমে দ্বীন চর্চার পাশাপাশি এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দুর প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন,ছাত্র সংখ্যার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদরাসাটি বৃহত্তর নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সর্ববৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসনীয়।
এই প্রতিষ্ঠানকে এই অঞ্চলের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্তর থেকে ভালবাসেন। এলাকাবাসীর মধ্যে এটি দোয়া কবুলের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবেও সুখ্যাতি রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একটি মহল মাদরাসাটি সুনাম ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন,কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানে একটি মজলিসে শুরা থাকার কথা থাকলেও কলাকোপা মাদরাসায় এই নিয়ম না মেনে তারা কয়েকজন লোকদিয়ে একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন।যাহা সম্পুর্ন কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা পরিপন্থী।
এই মহলটি কিছু দিন পর-পর বিভিন্ন কাল্পনিক অজুহাত তুলে সোশাল মিডিয়া সহ নানা ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে ছাত্রদের ক্ষেপিয়ে তোলেন এই স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ,অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা সহ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ করেন তারা। ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাদরাসার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের নানা হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন,শিক্ষকদের সাথে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে কটু কথা বলা সহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এক পরিবার থেকে ৫ জন লোককে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে পরিবারতন্ত্র বানিয়ে তোলার অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেন,ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ইলিয়াস,রিয়াজ,সোলাইমান সহ ৫ সদস্য মাদরাসাকে নিজেদের কব্জা নিতে এমন অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে।
এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনাও করেন ছাত্ররা। তারা কোন ভাবেই শতবছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নিতে দিবেনা বলে জানান।তারা বলেন কলাকোপা মাদরাসায় মূলত এখন ইলিয়াস ও রিয়াজকে নিয়েই সমস্যা।
শিক্ষার্থীরা বলেন,মাদরাসার বর্তমান মোহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আলী একজন বড় মাপের আলেম। তিনি আল্লামা আহমাদ শফী (রহঃ) এর বিশিষ্ট খলিফা। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর যাবত কলাকোপা মাদরাসায় সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে আসছেন।এর আগে তিনি এই মাদরাসার নায়েবে মোহতামিমের (ভাইস প্রিন্সিপাল) দায়িত্ব পালন করেছেন। তার হাতেগড়া ছাত্ররা আজ বাংলাদেশের বড় বড় মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও মোহাদ্দিস হিসেবে ইলমে দ্বীনের খেদমত করছেন। কিন্তু ইলিয়াস রিয়াজ ও সোলাইমান কথায় কথায় ছাত্রদের নানা ভাবে হুমকি ধমকি দেওয়া ও ছাত্রদের নাম কেটে দেওয়ার হুমকি প্রদান সহ মাদরাসার নানা উন্নয়ন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে আসছে। এছাড়া মাওলানা আক্তার নামের এক শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়ে আবার তাকে স্বপদে বহাল করার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন অনতিবিলম্ব মাওলানা আকতার হোসেনকে স্থায়ী বহিষ্কার ও বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে কওমি মাদরাসার নীতিমালা অনুযায়ী মজলিসে শুরা গঠন করে মাদরাসা পরিচালনার দাবী জানানো হয়।এই দাবী না মানলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচি দিবেন বলে সংবাদ সম্মেলন জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর