বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করলেন সৌদি আরবের উত্তর সীমান্ত অঞ্চল প্রদেশের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন খালিদ বিন সুলতান। তিনি আজ রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএমের (বার) সঙ্গে বৈঠককালে এ প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানসম্মত পোশাক পণ্যের গুণগত মানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে তিনি প্রায়ই বাংলাদেশের পোশাক পণ্য দেখে থাকেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত গভর্নরকে জানান, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল প্রদেশের বিভিন্ন শহরে অনেক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রশংসা করে গভর্নর বলেন, তিনি তাদের নিজের লোক বলে মনে করেন। তাদের সাহায্য সহযোগিতা করা তিনি তার দায়িত্ব বলে মনে করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত গভর্নরকে জানান, সৌদি আরবের বাণিজ্যিক গোপনীয়তাবিরোধী আইনের আওতায় বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা নিবন্ধন করার কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কোনোপ্রকার সমস্যা ছাড়াই তাদের ব্যবসা নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী গভর্নরকে বলেন, সৌদি আরবের সবুজায়ন উদ্যোগের আওতায় ১০ বিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। সৌদি আরবের মরুভূমির জন্য উপযোগী ও সহনশীল বৃক্ষের চারা সরবরাহ করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার ও বিভিন্ন পর্যটন স্থানের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পর্যটক বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া দুই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিনিময়ের কথাও রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত করোনা আক্রান্ত অভিবাসীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান করায় সৌদি সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। সম্প্রতি বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের ১৫ লাখ ডোজ টিকা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রদূত সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।