বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বাংলাদেশের মুখপত্রে আপনাকে স্বাগতম।
শিরোনাম :
পল্টনে ১মাসে ১শ৯৪জন গ্রেফতার ২৭ টি মোবাইল উদ্ধার ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত অকটেন ও পেট্রোল সংকটে ধুঁকছে নবীনগর: সক্রিয় অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট; রাতের আঁধারে বাড়তি দামে বিক্রি লক্ষীপুর পৌরসভা ফিরোজ মিয়া তৈলের পাম্পের ম্যানেজার অহিদ/ অধূদের অত্যাচারে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রাজধানীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ নবীনগর আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের রোগীকে মেরে ফেলার অভিযোগে হাসপাতাল ভাংচুর  চিরসবুজ নায়ক আলমগীরের ৭৬তম জন্মদিন পালিত বাংলাদেশে জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনে আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকের বংশালে চোরাই স্বর্ণের চেইন চেক বই ও দলিল উদ্ধার- ২ জন গ্রেফতার কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি প্যানেল জয়ী

কমলনগরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে আশ্রয়হীনদের জীবন 

বাংলাদেশের মুখপত্র ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২
মিজানুর রহমান সোহেল বাংগালী,লক্ষ্মীপুর: পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘ আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও / রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি।একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
কবির সেই আসমানীরা এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্ভি হতে শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে।
সরেজমিনে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সময়ের সাথে এখন বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের যাপিত জীবনের। কবির ওই ভেন্না পাতার ছাউনী থেকে তারা এখন বসবাস করছে রঙ্গিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে। সেই বাড়িতেই করছে শাক-সবজির আবাদ। কেউবা করছে হাঁস-মুরগি, ছাগল ও গরু পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছে স্কুলে। বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে খুশি আশ্রয়হীন মানুষগুলো।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন ও কমলনগর উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট অফিস সুত্রে জানাযায়,উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে এর আগে ৫০০ টি গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৬০ টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্নয়ে যোগ্যদের চিহ্নত করে এসব ঘর দেয়া হবে। ঘরগুলো নির্মাণে গুনগত মান বজায় রেখে কাজ করা হচ্ছে।
বদলে যাওয়া আশ্রয়হীনরা জানান,কিছু দিন আগেও ভাবিনী নিজের ভাল একটা বসবাসের ঠিকানা হবে, এখন সেটি হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি, নিজের হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সত্যই এটা স্বপ্নের। এমনটি হবে ভাবিনি, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জন্য দোয়া করি। তিনি যেন আমাদের দিকে আরো তাকান। আমাদের জন্য আরো কিছু করে দেন। জমিসহ পাকা ঘর পাবো তা জীবনে কল্পনাও করিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আমাদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখন অন্তত মরার আগে মাথা গোঁজার ঠাই নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। কথাগুলো বলছিলেন মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে জমিসহ ঘর পাওয়া লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরপাগলা গ্রামের মোঃ হোসেন ও চরঠিকা গ্রামের ফারুক ও আতরের জাহান। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে ফারুক ও আতরের জাহানের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উপহার পাচ্ছেন কমলনগর উপজেলায় আরো ২৬০ টি পরিবার। মাথা গোঁজার স্থায়ী আবাসন পেয়ে দারুণ খুশি ভূমিহীন হতদরিদ্র এ পরিবারগুলোর সদস্যরা।
উপজেলার তোরাবগন্জ,চরলরেন্স,
পাটারিরহাট ও চরকাদিরা ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরী করা হচ্ছে এস ঘর। চরকাদিরা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তারপাড়া,৫ নম্বর ওয়ার্ডের লেদার বাপের সমাজ ও ফজুমিয়ারহাট বাজারের পূর্ব পাশে চরঠিকা গ্রামের ভূলুয়া নদীর পাড়ে,বটতলী,তোরাবগন্জ ও চরলরেন্স সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসের উপযোগী সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের জন্য টেকসই এই ঘর নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে নির্মাণ করা হয় ঘরগুলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামানের প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন ভিত্তিক সঠিকভাবে তালিকা তৈরী ও যাছাই বাছাই করে নদী ভাঙা পরিবারগুলোকে মনোনীত করে বাসগৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি ও গুনগত মান বজায় রেখে জেলা প্রশাসকের তত্ত্ববধানে নতুন এই পাকা ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দুর্যোগ সহনীয় ঘরগুলো নির্মাণে এটি সরকারের মহতি উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে যাচ্ছে।
নদী ভাঙা গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন এসব ঘরগুলো পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ,কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) পুষ্প পুদম চাকমা সহ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রতিনিয়ত এসে কাজের সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন তারা।
বর্তমান ইউএনওর তদারকিতে এর আগে কমলনগর উপজেলায় আশ্রয়ন-২ এর আওতায় ৫০০ টি ঘর নির্মাণ করে ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। এখন আবার ২৬০ টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে কমলনগরে এসব ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব অসহায় পরিবারদেরকে শুধু ঘর নয়, ঘরের সঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা। ঘর নির্মাণে মান নিশ্চিত করার কথা বিবেচনা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না করে উপজেলা প্রশাসন নিজেদের তদারকির মাধ্যমে তা নির্মাণ করে দিচ্ছে। ফলে কম খরচে ভাল মানের ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। ২৬০ টি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান দুজনের প্রচেষ্টায় কাজের গুনগত মান বজায় রেখে চলছে ঘর নির্মাণ।
ভূমিহীনদের এস ঘর নির্মাণে সার্বিক তদারকি করা,নিয়মিত সরেজমিনে এসে খোঁজ খবর নেওয়া সহ টেকসই ঘর নির্মাণ করতে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও।তাদের পরিশ্রমের ফলে কমলনগরে টেকসই ঘর পাচ্ছেন নদী ভাঙা এসব অসহায় পরিবারগুলো।
এসব ঘর নির্মাণে কোন প্রকার নয়ছয় হয়নি। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ নকশা ও ডিজাইনের ঘর পেয়ে আনন্দিত ভূমিহীন পরিবারগুলো।
চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুফতী নুরুল্লাহ বলেন,এই প্রকল্পের আওতায় তার ওয়ার্ডে টেকসই ঘর নির্মাণ হচ্ছে। এতে আশ্রয়হীন মানুষগুলো পাবে নতুন ঠিকানা।
উপজেলার চরকাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামানের প্রচেষ্টায় কমলনগর উপজেলায় হতদরিদ্র যাদের বসবাসের কোন ঠিকানা ছিলো না, তাদের স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এটা সত্যিই বিষ্ময়কর। ওই মানুষগুলো তাদের ভাগ্যের চাকা নতুন ভাবে ঘুরাতে শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামান জানান,আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার- এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় কমলনগর উপজেলায় ২৬০ টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে উপজেলার সংশ্লিষ্টরা যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখেছেন । মহান এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত হতে পেরে ধন্য মনে করছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর